কোয়ান্টাম কম্পিউটার

ব্রুট- ফোরস এট্যাক হ্যাক করার একটা টুল। খুব সাধারনভাবে বলতে গেলে এটা বিভিন্ন অক্ষর/নাম্বার সমন্বয় করে আপনার পাসওয়ার্ড বের করার চেষ্টা করে। যেমন একটা সময় অনেকে পাসওয়ার্ড দিতেন ১১১ অথবা ১২৩ । ব্রুট- ফোরস এট্যাক যেটা করে প্রথমে জানার চেস্টা করত আপনার পাসওয়ার্ডটি কত ডিজিটের। এখানে আপনার পাসওয়ার্ড তিন ডিজিটের। সুতরাং ব্রুট- ফোরস ১২৩ দিয়ে যত গুলো নাম্বার বানানো সম্ভব সবগুলো দিয়ে একের পর এক লগইন করার চেষ্টা করত, যেমন ১২৩, ১৩২, ৩২১, ৩১২, ২২২, ৩৩৩, ১১১ এবং বুম পাসওয়ার্ড লেগে যেত আর সাথে সাথে শুরু হত হ্যকার দের তান্ডব।

এই ব্রুট- ফোরস এট্যাক বন্ধ করার জন্য ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞ রা বললেন পাসওয়ার্ড হতে হবে কমপক্ষে আট অক্ষর/নাম্বার এর। যার ফলে পারমুটেশন-কম্বিনেশন করে বা ব্রুট- ফোরস এট্যাক এর মাধ্যমে পাসওয়ার্ড বের করা না যায়। এর পর আরো অনেক কিছু ধিরে ধিরে যোগ হতে থাকে যেমন সংখ্যা আর অক্ষর এর কম্বিনেশনের মাঝে স্মল লেটার বা ক্যাপিটাল লেটার থাকতে হবে, বিশেষ সাইন যেমন @ # % এগুলো থাকতে হবে। এবং অনেক ওয়েব সাইট- মোবাইল- ব্যাংক তিনবারের বেশী ভুল পাসওয়ার্ড দিলে এক্যাউন্ট লক করে দেবার ব্যবস্থা করল। সাথে মোবাইলে পাসওয়ার্ড পাঠানো তো আছেই।

উল্লেখ্য একটি সাধারন কম্পিউটারের ব্রুট- ফোরস এট্যাক এর মাধ্যমে পাসওয়ার্ড বের করতে ২/৩ ঘণ্টা থেকে শুরু করে ২/৩ লেগে যেত। একটি সুপার কম্পিউটারের হয়ত কয়েক মিনিট লাগবে।

এতক্ষণ এত কথা লিখলাম যেটার কারনে তার নাম কোয়ান্টাম কম্পুঊটার। মানব ইতিহাসে এটা একটা অনবদ্য আবিষ্কার হতে চলেছে। আমি যদি বলি এটা দিয়ে অনেক জটিল গানিতিক হিসাব, মহাকাশ গবেষণা, ওষুধ শিল্পের গবেষণা মাত্র কয়েক মিনিটে করে ফেলা সম্ভব যা করতে একটা সুপার কম্পুঊটারের করতে ১০ হাজার বছর লাগবে। আমার মত অনেকের মাথায় প্রথম যে প্রশ্ন টা মাথায় আসবে গানিতিক হিসাব বলতে তো আমরা বুঝি যোগ বিয়গ গুন ভাগ। এইটা করতে একটা সুপার কম্পিঊটার এর দশ হাজার বছর লাগবে কেন আর একটা কোয়ান্টাম কম্পুঊটার এর এত কম সময় লাগবে কেন।

সুতরাং সহজ করে বুজানোর জন্য আবার ফিরে আসি পাসওয়ার্ড এর কোথায়। আমরা অনেকেই জানি  পাসওয়ার্ড গুলো সংরক্ষিত হয় MD5 hash টেক্সট এ। যেমন ১২৩ এর MD5 hash টেক্সট 202cb962ac59075b964b07152d234b70এর মাঝেই লুকানো থাকে আপনার পাসওয়ার্ড ১২৩। বিশেষ এলগরিদম এর মাধ্যমে MD5 hash টেক্সট ভেঙে হ্যকার রা আপনার পাসওয়ার্ড বের করে ফেলতে পারে। এখন পাসওয়ার্ড যত জটিল হবে MD5 hash টেক্সট ও তত জটিল হবে আর সাধারণ কম্পুঊটার বলেন আর সুপার কম্পুঊটার এর সময় লাগবে বেশী। কিন্তু বর্তমান পাসওয়ার্ড ব্যবস্থায় কোয়ান্টাম কম্পুঊটারের এই  MD5 hash টেক্সট লাগবে কয়েক সেকেন্ড।

এখন বলি কোয়ান্টাম কম্পুঊটারের এত শক্তিশালী কিভাবে হল তার ব্যখ্যা। এখনকার কম্পিউটার কাজ করে বিদ্যুতের সুইচ অন অথবা অফ হয়ে। সুইচ অন মানে ১ আর সুইচ অফ মানে ০। আর কোয়ান্টাম কম্পিউটারে একই মুহূর্তে সুইচ অন এবং অফ দু’টোই একসঙ্গে। এটা যেন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অন্যতম জনক আরউইন শ্রয়েডিঙ্গার-এর কল্পিত পরীক্ষার মতন। কোয়ান্টাম যে অদ্ভূতুড়ে, সেটা বোঝাতে শ্রয়েডিঙ্গার ওই কাল্পনিক পরীক্ষার কথা বলেছিলেন। যেখানে ডালাবন্ধ একটা বাক্সের মধ্যে আছে একটা হাতুড়ি, পটাশিয়াম সায়নাইড ভর্তি শিশি এবং একটা বিড়াল। কোয়ান্টাম মেকানিক্স কোনও কিছুই নিশ্চিত করে বলে না, তার কাছে সব কিছুই সম্ভাবনা। মানে, হাতুড়ির ঘা বিষ ভর্তি শিশির গায়ে পড়ার সম্ভাবনার কথাই শুধু বলে কোয়ান্টাম। তা হলে? হাতুড়ির ঘা শিশির গায়ে পড়েছে এবং পড়েনি। অর্থাৎ, পটাশিয়াম সায়নাইড বাক্সের মধ্যে ছড়িয়েছে এবং ছড়ায়নি। ফলে বেড়ালটা মরেছে এবং মরেনি। ডালাবন্ধ অবস্থায় একটার বদলে দু’টো বেড়াল। জীবিত ও মৃত। আর বাক্সের ডালা খুললে? তখন একটাই বেড়াল। জীবিত অথবা মৃত। ডালা খোলা মানে কোয়ান্টামের জগৎ থেকে বেরিয়ে আসা। ডালাবন্ধ অবস্থায় ওই যে ‘অথবা’ দূরে চলে গিয়ে ‘এবং’ দশা, সেটাই কোয়ান্টাম। সেই জন্যই কোয়ান্টাম কম্পিউটারে ইলেকট্রিক সুইচ অন এবং অফ দু’টোই একসঙ্গে অর্থাৎ ০,১,০১। আর এটাই করেছে কোয়ান্টাম কম্পুঊটারকে অসাধারণ শক্তিশালী।

প্লেন আবিষ্কার, বিদ্যুৎ আবিষ্কার, ইন্টারনেট আবিষ্কার, আগুন জ্বালানোর মতনই বলতে পারি আমাদের জেনারাশন ও এক অসাধারণ সৃষ্টির সাক্ষী হল আমাদের জেনারেশন। কিভাবে? এখন পর্যন্ত জানা যায় আমেরিকার গুগল কোম্পানি সম্প্রতি এই কোয়ান্টাম কম্পুঊটার মাত্র কয়েক সপ্তাহ হল বানিয়েছে। কিন্তু অন্য দেশ গুলো ও বসে থাকবে না । এই কোয়ান্টাম কম্পুঊটার বানানোর জন্য অথবা কাউন্টার দেবার জন্য তারাও প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে। যা আগামি ২/১ দশকের মাঝেই সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা, মহাকাশ গবেষণা, ওষুধ শিল্প, ডিএনএ পাঠোদ্ধার পাল্টে যাবে এইটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। আর এই যুগ বদলের সাক্ষী হব আমরা সবাই। কোয়ান্টাম কম্পুঊটার সম্পর্কে আর কিছু জানতে নিচের লিংক ক্লিক করতে পারেন।

https://www.prothomalo.com/technology/article/1620799

https://www.prothomalo.com/technology/article/1620941/%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A7%87

Leave a Comment